বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায়।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এভাবে কি চলতে থাকবে? কোনো মাস্টার প্ল্যান কি কাজ করছে?’
রিজভী বলেছেন, সন্ত্রাসের এই উত্থান সাধারণ মানুষকে চিন্তিত করছে এবং অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হতে পারে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি দলের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেটা খুব বাস্তবধর্মী, কোনো আরব্য উপন্যাসের মহাকাব্যের মতো নয়।
রিজভী বলেন, ‘এখানে বাগাড়ম্বর করার কোনো সুযোগ নেই। এর আগে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাদের দেখেছি, ফ্যাসিবাদের ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে যারা সাড়ে ১৫ বছর এই দেশে রক্ত ঝরিয়ে শাসন করেছেন, তাদের কথাও আমরা শুনেছি- ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, বিনা মূল্যে সার দেবেন, কত কথা শুনেছি! অতিশয়োক্তি এবং বাগাড়ম্বরমূলক কথার কিছু বাস্তবায়ন হয় না। বরং টাকা চুরি, হরিলুট, ব্যাংকের টাকা নিজের পকেটে ঢোকানো- সেই লুটেরা অর্থনীতির আমরা উৎসব দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ড. ইউনূস সাহেবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো নিরপেক্ষ সরকার, এই সময়ে এত সন্ত্রাসীদের উত্থান কেন ঘটবে? আজকে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় এত সন্ত্রাসী হয়েছে, এটা কিসের জন্য? এটা আজকে সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। নানা কথা মানুষ নানাভাবে বলছে। কোথা থেকে এই সন্ত্রাসীরা এত রাজত্ব করছে! এখন তো আরও শান্তিপূর্ণ সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের বসবাস করার কথা।’
রিজভী বলেন, ‘এটা তো শেখ হাসিনার আমল নেই, টাকা লুটের আমল নেই, সন্ত্রাসীদের রাজত্ব করার আমল নেই, বিশ্বজিৎকে দৌড়ে, দাবড়ে গুলি করে হরতাল ভঙ্গ করার সেই দৃষ্টান্ত থাকার কথা নয়। এটার জন্যই তো নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন প্রায় ১৬ বছর ধরে আমরা করেছি।’চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদুল্লাহর ওপর হামলার পর সরকার কেন সতর্ক হলো না—প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘কেন ওসমান হাদি এই সময়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে?’
তিনি আরও বলেন, ‘নানা সন্দেহ আসছে। নানা ঘটনা আসছে। আমরা মাঝেমধ্যেই অডিও শুনি, যিনি দিল্লিতে বসে আছেন, এই দেশের সাবেক এক পতিত প্রধানমন্ত্রী, তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার কথা প্রতিনিয়ত বলছেন। এই কি প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশ?’