অভিনেতা হিসেবে অক্ষয় কুমারের সংগ্রামের গল্প কারো অজানা নয়। অভিনয় করতে গিয়ে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনারি’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এটি ১৯৯৪ সালের ঘটনা। পরবর্তীতে তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন।
অক্ষয়ের প্রেমে-বিচ্ছেদ ও ক্যারিয়ারের কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেছেন পরিচালক সুনীল দর্শন। ‘মিনিটস অব মাসালা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনীল দর্শন বলেন, “একটা সময় পর প্রযোজকেরা অক্ষয়কে নিয়ে সিনেমা প্রযোজনা করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কারণ তার সিনেমার আর কাটতি ছিল না।”
পেশাগত জীবনে অনিশ্চয়তা থাকলেও অক্ষয়ের ব্যক্তিগত জীবন তখন বেশ ভালোই চলছিল বলে মনে হয়েছিল। শিল্পার সঙ্গে অক্ষয়ের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, তার মনে হয়েছিল তাদের বিয়ে প্রায় নিশ্চিত। এ বিষয়ে সুনীল দর্শন বলেন, “সেই সময়ে অক্ষয় ও শিল্পার সম্পর্ক বেশ ভালোই চলছিল। আমার মনে হয়েছিল তারা প্রায় বিয়েই করে ফেলছেন। কিন্তু কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যার কারণে তারা আলাদা হয়ে যান।”
তবে কী নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তা জানাননি দর্শন। পরবর্তীতে অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নাকে বিয়ে করেন অক্ষয় কুমার। ইতোমধ্যে দাম্পত্য জীবনে ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন তারা।
সুনীল দর্শন নির্মিত ‘জানোয়ার’ ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। এ সিনেমা মুক্তির পর অক্ষয়ের ভাগ্য বদলে যায়। মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক ব্যর্থ সিনেমা উপহার দেওয়ার পর অক্ষয়ের ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সিনেমাটি।
এর আগে ‘সপূত’ (১৯৯৬), ‘লাহু কে দো রং’ (১৯৯৭), ‘ইনসাফ: দ্য ফাইনাল জাস্টিস’ (১৯৯৭), ‘দাওয়া’ (১৯৯৭), ‘তারাজু’ (১৯৯৭)-সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন অক্ষয়। স্মৃতিচারণ করে সুনীল দর্শন বলেন, “এরই মধ্যে ‘জানোয়ার’ সিনেমা মুক্তি পেল এবং হিট হলো। অক্ষয় কুমারের তারকাখ্যাতি প্রথমবারের মতো জাম্প করল।”
‘জানোয়ার’ সিনেমার সাফল্যের পর অক্ষয়ের হাতে নতুন কাজের সুযোগ আসে। আর যেসব সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। ‘হেরা ফেরি’ ও ‘ধাড়কান’-এর মতো সিনেমাও দর্শকদের সামনে আসে। এসব সিনেমার সাফল্য বলিউডে অক্ষয়ের অবস্থান আরো শক্তিশালী করে।
এ বিষয়ে সুনীল দর্শন বলেন, “এরপর ২৫ বছর ধরে অক্ষয়ের ক্যারিয়ার কেবল ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি তার সঙ্গে মোট সাতটি সিনেমা করেছি।”
২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নার সঙ্গে ঘর বাঁধেন অক্ষয় কুমার। এ দম্পতির প্রথম সন্তান আরাভ কুমারের জন্ম হয় ২০০২ সালে। তাদের নিতারা কুমার নামে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। ২০১২ সালে জন্ম তার।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে সংসার পেতেছেন শিল্পা শেঠি। ২০০৯ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তারা। এই দম্পতি ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছে দুই সন্তান।