সালমান শাহ—বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় বিস্ময় এবং আক্ষেপের নাম। মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে বদলে দিয়েছিলেন ঢালিউডের গতিপথ। কিন্তু তার আচমকা রহস্যমৃত্যুতে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে সেই সম্ভাবনা। আজ এই কালজয়ী অভিনেতার রহস্য-মৃত্যুর তিন দশক। ১৯৯৬ সালের আজকের দিনেই তিনি চলে গেছেন অনন্তলোকে।
কেন এত জনপ্রিয় সালমান শাহ? কেন মৃত্যুর তিন দশক পরও তাকে ঘিরে চর্চার কমতি নেই? অনেকের ভিড়ে তিনি কেন অনন্য? এসব প্রশ্ন রাখা হয় চলচ্চিত্র গবেষক ও আলোকচিত্রশিল্পী মীর শামসুল আলম বাবুর কাছে; সালমানের সঙ্গে যার ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল। ঢাকা পোস্টের কাছে অভিজ্ঞতা, যুক্তি ও ব্যাখ্যায় তিনি বর্ণনা করলেন সালমান শাহকে…
প্রথম কথা হলো, তার ন্যাচরাল অভিনয়। দ্বিতীয়ত, তিনি যে সময়টায় এসেছিলেন, সেই সময়টা বুঝতে হবে। তখন মানুষের মধ্যে একটা পরিবর্তন আসছিল। স্বাধীনতার প্রায় ২০ বছর হয়ে গিয়েছিল। সাধারণভাবে বড় কোনো ঘটনার ২০-২৫ বছর পর একটা জেনারেশন চেঞ্জ হয়। ওই পরিবর্তনটাই তখনকার দর্শকরা চাইছিল। এর আগে রাজ্জাক, জসিম, সোহেল রানার মতো বয়স্ক নায়কেরা শীর্ষে ছিলেন। কিন্তু তখনকার মানুষ নতুন মুখ চাচ্ছিল। সেই জায়গায় নতুন মুখ হিসেবে শাবনাজ ও নাঈমও এসেছিলেন। তারা নতুন হলেও তাদের মধ্যে ন্যাচরাল অভিনয়টা তুলনামূলক কম ছিল। এর একটা কারণ, নির্মাতারাও কিছুটা বয়স্ক ছিলেন। এরপর যখন সালমান শাহ এলেন, তার পরিচালক সোহান ভাইও তুলনামূলকভাবে ইয়াং টাইপের ছিলেন। ফলে মানুষ যে জিনিসটা চাচ্ছিল প্রেম, নতুন এবং ফ্রেশ মুখ সেটা সালমান ও মৌসুমীর মধ্যে পাওয়া গেল।
এরপর একটা নতুন ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়েছিল। ওই সময় যারা নতুন আসছিল, তাদের মধ্যে সালমানের অভিনয় ছিল ন্যাচরাল, তার ফ্যাশন সেন্স ছিল এবং তার চরিত্র বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলাদা একটা ব্যাপার ছিল। তার ছবিগুলোকে শুধু প্রেমের গল্প বললে হবে না। সবগুলোই হয়তো প্রেমের গল্প, কিন্তু সবগুলোর মধ্যে আলাদা ধরনের একটা বিষয় ছিল। সাধারণ প্রেমের গল্প বলতে নায়ক-নায়িকার দেখা হলো, প্রেম হলো, পরিবার বাধা দিল, পরে আবার তাদের মিলন হলো এই ধরনের গল্প। কিন্তু সালমানের ছবিগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই কাঠামোর মধ্যেও আলাদা আলাদা কিছু করার চেষ্টা ছিল। এই জায়গাটাই তাকে অন্যদের মধ্যে আলাদা করেছিল।