দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলায় আসছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপ্রধানের এই আগমনকে ঘিরে পুরো জেলা শহরকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। রাস্তার শোভাবর্ধনে চলছে ঘষা মাজা ও সাজসজ্জার কাজ। শহরজুড়ে সাঁটানো হয়েছে : ‘শেকড় থেকে শিখরে’ লেখা ও ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ।
আজ ৬ সেপ্টেম্বর ২ দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই শহরের মাটি ও বাতাসে বেড়ে ওঠা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ নিজ জেলা শহরে আসছেন নতুন রূপে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম সফর।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরকে রং-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন দেওয়ালিকা দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো শহর। তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য শহরের বড় মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই মঞ্চে একসঙ্গে ৫ হাজার মানুষের বসার আয়োজন করা হয়েছে। এই মঞ্চের নিরাপত্তায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার, এনএসআই, র্যাব, এসএসএফ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জোরদার করতে ডগ স্কোয়াড সদস্যরা মাঠের চারদিকে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি যেসব ভ্যানুতে তার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন সেসব ভেন্যুতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি রোববার বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তাকে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। সালাম গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি সেনুয়া গোরস্তানে তার পিতামাতার কবর জিয়ারত করবেন। দুপুরে তিনি তার পৈতৃক বাড়িতে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় শহরের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে সদর উপজেলার জামালপুর ইক্ষু খামারে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ইক্ষু খামারের ৮১ একর জমিতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী ফলক । সেখানে টানানো হয়েছে পল্লী বিদ্যু সমিতির আওতায় বিদ্যুৎ লাইন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠান স্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাষ্ট্রপতির চলাচলের পুরো রুটে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।