টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে নির্দিষ্ট শর্তে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাওয়া যাবে।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৮ টাকার চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তাঁর লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।
তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই নগদ অর্থ প্রদান করা যাবে না।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SREDA) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।
সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।