দেশে হাম ও হামের উপসর্গে প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছে আরও তিন শিশু। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— এই মৃত্যুর মিছিলের শেষ কোথায়? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারই বা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। আর সেখানে যদি শিশুরা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের মতে, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের এভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই বড় সংকেত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৩ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে দুজন এবং খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও ৫৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে চলতি বছরে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশ্ন এখন একটাই— হাম ও হামের উপসর্গে শিশুদের এই মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে? আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ কবে আরও দৃশ্যমান হবে?