সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমপি ওয়াহাবের হস্তক্ষেপে ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বহুতল ভবন পাচ্ছে ৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া সেই ইউপি সচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ফের বাড়ছে তিস্তার পানি, দুশ্চিন্তায় নদীপাড়ের মানুষ রিভলবার বলে লাইটার বিক্রির চেষ্টা, কর্ণফুলীতে আটক ৪ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, নিহত ৫ ইতালিতে তিন বাংলাদেশি খুন: বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য শাহবাগে ৪০ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ, গ্রেপ্তার ৩ ইরানে আবারও হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন শঙ্কা

৮২ লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক উপদেষ্টা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চিকিৎসা খাতে প্রায় ৮২ লাখ টাকা সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তাই তিনি পুরো প্রক্রিয়া ও ব্যয়ের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করেছেন।

তিনি জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী মন্ত্রী বা সমমানের পদে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে সব বিল ও রসিদ যাচাই করে পরিশোধের ব্যবস্থা।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২০১৫ সালে তার হার্টে স্টেন্ট বসানো হয় এবং একাধিকবার এনজিওগ্রাম করাতে হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তার হৃদযন্ত্রে অনিয়ম (অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন) ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড তাকে ক্যাথেটার অ্যাবলেশন নামের জটিল চিকিৎসার পরামর্শ দেয়, যা দেশে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় বিদেশে করার সুপারিশ করা হয়।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালসহ বিদেশের কিছু বিশেষায়িত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার পর অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের মধ্যে কিছু সময় ব্যবধান তৈরি হয়, যার মধ্যে তিনি হজ পালনের জন্য দেশে ফিরে আসেন।

খালিদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার বিদেশ চিকিৎসায় তার প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যার সব রসিদ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। পরে হজ শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশে চিকিৎসকদের পরামর্শে আবারও দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি জানান, পরবর্তীতে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মতো বিল আসে। তবে দূতাবাসের সহায়তায় কিছু খরচে ছাড় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৮২ লাখ টাকার কাছাকাছি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার হাসপাতাল ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় সরকার বহন করেছে, তবে তার সঙ্গে থাকা সহযাত্রী, হোটেল থাকা, খাবার ও ব্যক্তিগত অন্যান্য খরচ তিনি নিজে বহন করেছেন। সব ধরনের বিল ও নথিপত্র যথাযথভাবে দাখিল করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

শেষে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেননি। কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উপস্থাপনাকে তিনি “ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর ফ্রেমিং” বলে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102