বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কমিটি গঠনে অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক।
শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হঠাৎ করেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপস্থিত হতে বলা হয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাদের সামনে একটি রেজুলেশন খাতা উপস্থাপন করা হয় এবং তাতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করবে, তাতে তারা সম্মতি দিয়েছেন বলে ওই স্বাক্ষর গণ্য করা হবে।
এ সময় কয়েকজন অভিভাবক আপত্তি জানিয়ে বলেন, কমিটিতে যোগ্য, শিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাদের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রাখা যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণ গার্জিয়ানদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং স্বচ্ছতারও অভাব ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি যে একটি কমিটি করা হচ্ছে। কিন্তু কারা সদস্য হচ্ছেন, কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে বা কোন প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। পরে আমাদের স্বাক্ষরকে সম্মতির প্রমাণ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি জানতে পেরে আমরা অবাক হই।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে।
অভিযোগকারীরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নতুনভাবে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিষ বলেন, “কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি আমার কাছে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাস বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এখন দেখার বিষয়, অভিভাবকদের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত উদ্যোগ নেয় কি না এবং বিতর্কিত এ কমিটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে।