যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পর এটাই তেলের দামের অন্যতম বড় পতন বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার পর ডব্লিউটিআইয়ের মূল্য প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
তেলের বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারেও শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক দিনের শুরুতেই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এ ছাড়া তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। নিয়মিত লেনদেন শুরুর আগেই ফিউচার মার্কেটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০–সংশ্লিষ্ট ফিউচার প্রায় ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তিখাতনির্ভর নাসডাক–সংশ্লিষ্ট ফিউচার প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি খাতকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে চালু করা হবে না। চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তার সরকারের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই সমঝোতা আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।