সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

‘নতুন শিক্ষাক্রমে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের নতুন সিলেবাস ও শিক্ষাক্রম এমনভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। তিনি জানান, পাঠদানের মূল কেন্দ্র হবে শ্রেণিকক্ষ, আর শিক্ষার্থীদের শেখার প্রয়োজনীয়তা সেখানেই পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসার দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরের কার্যক্রম ইতোমধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার এই খাতে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় সেশনজট কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে যাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয় এবং তারা দ্রুত পরবর্তী শিক্ষাস্তরে ভর্তি হতে পারে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলেজ শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল দুই মাসের মধ্যেই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

পাঠ্যবই সংশোধন ও হালনাগাদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিমার্জিত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা সময়মতো বই হাতে পায়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদানের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞান বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102