রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

‘নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মনিরুলের বক্তব্য হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

জাতীয় সংসদে জামায়াতের নারী এমপিদের পোশাকের প্রতি ইঙ্গিত করে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্য হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এমপি মনিরুল বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে দুই যুগেরও আগের একটি ঘটনার অবতারণা করেন। তিনি জানান, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারের মন্ত্রী হলে তিনি কুমিল্লার সব এমপিদের সস্ত্রীক নিজ বাসায় আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জামায়াতের তৎকালীন এমপি সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত হন। সেখানেই মনিরুল হক স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন কি না, তা জানতে চান তাহেরের কাছে। তখন তাহের নিজের স্ত্রীকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। কিন্তু পোশাকের কারণে তার মুখ দেখা যাচ্ছিল না।

সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সেদিন কয়েকজন বউ (স্ত্রী) নিয়ে যাননি। কিন্তু তাহের ভাই বউ নিয়ে গেছেন। ঢোকার পর দেখি, একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি তখন তাহের ভাইকে বললাম ‘ভাবী কৈ’? (হাত দিয়ে দেখিয়ে) উনি বললেন ‘ওই যে’। আমি বললাম- ‘(যেহেতু মুখ দেখা যাচ্ছে না) আপনি যে বদলিয়ে আনেননি কেমনে বুঝব?”

এসময় তিনি সংসদে জামায়াতের নারী এমপিদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের হাউজেও আমাদের বোনেরা এসেছেন এমপি হয়ে, আপনি (স্পিকার) অভিনন্দন জানিয়েছেন, আমিও অভিনন্দন জানাতে চাই। উনারা মেধাবী, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো, কারা আপনারা?’

এসময় তিনি নিজ দলের নারী এমপিদের দিকে দেখিয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এদিকে দেখতে পারেন। আমরা ওইদিকে তাকালে কী আছে বুঝব না, এটি ঠিক না তো।’

এসময় জামায়াতের এমপিরা এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। পরে ডেপুটি স্পিকার বক্তব্যের ওই অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করেন।

এরপর স্পিকারের কাছে দুই মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মনিরুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় সংসদে সূক্ষ্ম রসবোধ ও ইতিহাস চেতনা নিয়ে বক্তব্য দিলেও আজকের বক্তব্যে তিনি সব সংসদীয় রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি প্রথমত বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত ইতিহাসের দোহাই দিয়ে কটাক্ষ করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, তিনি বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কথা বলে তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।’

ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সদস্য যেন সংসদে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের সেই বিতর্কিত ও সংসদীয় রীতিনীতিবহির্ভূত অংশটুকু ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার সংসদে উপস্থিত সব সংসদ সদস্যের উদ্দেশে একটি রুলিং জারি করে বলেন, ‘সংসদে বসে কেউ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না এবং সবাইকে সংসদের মর্যাদা ও নিজস্ব ডিগনিটি বজায় রাখতে হবে।’

এরপর স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীকে ৩০২ ধারায় একটি নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তা বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102