সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে ফিরে এসে নেতৃত্ব দেন।

তিনি সকালেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লেখেন, ‘আমরা ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাব।’

তিনি আন্দোলনকারীদের জাতীয় পতাকা ও একটি করে বই হাতে যন্তর-মন্তরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।

যন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অভিজিৎ দিপকে বলেন, প্রতিবাদ কেবল দাবি আদায়ের মাধ্যম নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার একটি শক্তিশালী উপায়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার তরুণ সমাজকে অবহেলা করছে এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন প্রমাণ করে আমরা এখনো বেঁচে আছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি রাখি।’

দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

এ ছাড়া যন্তর-মন্তর এলাকায় আন্দোলনকে ঘিরে কঠোর নজরদারি বজায় রাখে পুলিশ।

পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও উত্তেজনা

এই কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা ও এসএফআই-এর কর্মীরাও অংশ নেন। পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং শিগগিরই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, একই এলাকায় আরেকটি গোষ্ঠী ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে।

আন্দোলনের পটভূমি

জানা যায়, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সূচনা হয়। ভুয়া আইনি ডিগ্রিধারী কিছু বেকার যুবককে উপহাস করে দেওয়া ‘আরশোলা’ মন্তব্যকে ঘিরেই এই অনলাইন আন্দোলনের জন্ম বলে দাবি করা হয়। ধীরে ধীরে এটি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্ট এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। বর্তমানে যন্তর-মন্তর এলাকায় পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে পুরো এলাকা থমথমে অবস্থায় আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102