রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

তীব্র গরমে স্বস্তির নাম তালের শাঁস, তাড়াশে বেড়েছে চাহিদা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে, শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে মৌসুমি ফল তালের শাঁসের। গরমের এই সময়ে তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেশি হলেও তা নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না ক্রেতারা। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর সবচেয়ে বেশি।

তাড়াশ-নিমগাছী আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয়ভাবে ‘তাল সড়ক’ নামে পরিচিত। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ তালগাছের মনোরম দৃশ্য নজর কাড়ে পথচারীদের। স্থানীয়দের মতে, তৎকালীন মাধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান (১০৩) এই সড়কের পাশে বিপুলসংখ্যক তালগাছ রোপণ করেছিলেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (৩ জুন) তাড়াশ-নিমগাছী আঞ্চলিক সড়কের খাদ্য গুদাম মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে জমজমাটভাবে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। পাইকারি ও খুচরা—দুই ধরনের ক্রেতারই ভিড় রয়েছে। এখান থেকে শাঁস কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

তালের শাঁস বিক্রেতা পৌর এলাকার উত্তর বাঁধের ঘেলু সামাদ জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কচি তালের গাছের ফল কিনে সংগ্রহ করেন তিনি। তালের সংখ্যা ও আকার ভেদে একটি গাছের তালের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। প্রতি পিস তাল পাইকারিতে ৫ থেকে ৭ টাকা এবং খুচরায় ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

আরেক বিক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, এই মৌসুমে প্রায় অর্ধশতাধিক মৌসুমি শ্রমিক তালের শাঁস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক ক্রেতা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাড়াশ থেকে তালের শাঁস কিনে শহরে বিক্রি করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিনি গাছ ধরে তাল কেনেন। গাছের আকার ও ফলনের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি গাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হয়।

ক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, তালের শাঁস মৌসুমি ও সুস্বাদু একটি ফল। তাই প্রতি বছরই এই সময় শাঁস খাওয়ার চেষ্টা করি। আজ মেয়ের জন্য তালের শাঁস কিনতে এসেছি।

স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিকভাবে শীতল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে তালের শাঁস মানুষের কাছে এক অনন্য প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে তাড়াশের বাজারগুলোতে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা ও বেচাকেনা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102