রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে কনটেন্ট করায় নারীকে মারধর-গ্রাম ছাড়া করার হুমকি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

রাঙামাটির দুর্গম সাজেক অঞ্চলের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, শিক্ষকসংকট ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার পর এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী রিতা চাকমা, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রি জাং সি চাকমা’ নামে পরিচিত। তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ছয়নালছড়া পাড়ার বাসিন্দা।

জানা যায়, গত ১৬ মে তিনি ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম, অবহেলা ও শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার বার দেখা হয়েছে। এতে শত শত মন্তব্যের পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার শেয়ার হয়েছে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নানা চাপ ও হুমকির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন রিতা চাকমা। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং গ্রাম থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়।

রিতা চাকমা বলেন, ‘শৈশব থেকেই দেখে আসছি দুর্গম এলাকার অনেক সরকারি বিদ্যালয় অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে চলছে। যথাযথ তদারকির অভাবে বছরের পর বছর অনিয়ম চললেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। আমি বিষয়টি তুলে ধরার পর আশপাশের আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের অনিয়মের তথ্যও সামনে আসছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও এখনো টিনশেড ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষকসংকটের কারণে বছরের পর বছর অস্থায়ী শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা জানান, সাজেক ইউনিয়নের অধিকাংশ বিদ্যালয় দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অস্থায়ী শিক্ষকের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কিংবা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন বর্তমানে রাঙামাটিতে সংযুক্ত রয়েছেন এবং আরেকজন ২০১৯ সাল থেকে একটি মামলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত আছেন। ফলে বর্তমানে দুই শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া, ২০২২ সাল থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় উপজেলাজুড়ে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরার কারণে কোনো নাগরিককে হুমকি বা নির্যাতনের মুখে পড়তে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102