শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

আস্থা ও সমন্বয়ই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি : পার্বত্যমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি এ কথা বলেন।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের যৌথ আয়োজক ছিল মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো। অনুষ্ঠানটিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

বৈঠকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী ও সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিষদকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং জেলা পরিষদগুলোকে সম্পৃক্ত না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস) সঙ্গে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে হবে। একই সাথে তিনি জানান, অচিরেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘোষণা করা হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে স্থবির করে রাখা কিংবা বিদেশি দাতা সংস্থাকে নিরুৎসাহিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পাহাড়ের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ সব বাহিনী অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বার্থে পর্যটন খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে দাপ্তরিক সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

বিদেশি সাহায্য সংস্থা ও এনজিওগুলোর প্রতি নেতিবাচক বা সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে দীপেন দেওয়ান বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের পাহাড়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদারকি বা মনিটরিং না থাকার কারণে দারিদ্র্য বিমোচনের অনেক সরকারি-বেসরকারি অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচের কারণে জুমচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা সংস্কারের তাগিদ দেন তিনি। মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন ভাবার কোনো সুযোগ নেই; এর অধিকার ও স্বাধিকার রক্ষা করে একে দেশের মূলধারার অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। সেই সাথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকল্প-পরবর্তী সময়েও যেন উন্নয়নের ধারা বজায় থাকে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন কুক্‌কুক্‌ পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান এবং এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন ও অসমতা দূরীকরণে ইইউর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের চিফ বিপ্লব চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, পিআরএলসি প্রকল্পের সুবিধাভোগী কাজলী তঞ্চঙ্গ্যা, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জাগরণ চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নিখিল চাকমা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102