শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করার মধ্যেই এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড়দেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত হামকে শিশুদের রোগ হিসেবে গণ্য করা হলেও, বর্তমানে ২০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যেও এর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসার জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডও চালু করতে হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।
সাধারণত হামকে শিশুদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে বড়দের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো জনগোষ্ঠীর বড় অংশ টিকার আওতায় থাকলে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়াতে পারে না। তবে গত কয়েক বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় হামের সংক্রমণ বেড়েছে। ফলে যারা আগে টিকা নেননি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারাও ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ আবু আহাম্মদ শফি জানান, সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুদের তুলনায় ভালো থাকে। তবে ক্যানসার, যক্ষ্মা, কিডনি জটিলতা বা দীর্ঘমেয়াদে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনকারীদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, বড়দের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি শিশুদের মতো অতটা উদ্বেগজনক নয়। রংপুর বিভাগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে সোমবার পর্যন্ত দেশে ৪৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলাতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। টিকার ঘাটতি ও বাড়তে থাকা মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও হামের সংক্রমণ আবার বাড়ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়া এবং টিকাবিরোধী প্রচারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে। এখন ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, অন্তত ৮০ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে আবারও সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে এবং সংক্রমণ কমে আসবে।