রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

হিজাব পরার অনুমতি পেল ভারতের একটি রাজ্যের নারীরা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

কর্নাটকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকার বিতর্কিত ‘স্কুল ইউনিফর্ম সংক্রান্ত-২০২২’ সালের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করেছে। এর পরিবর্তে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মের সঙ্গে কিছু ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় প্রতীক পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি, সহায়তা প্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুল এবং প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব, পাগড়ি, পৈতা, শিবধারা ও রুদ্রাক্ষ পরতে পারবে। তবে শর্ত হলো, এসব প্রতীক যেন ইউনিফর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা বা শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্তকরণে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।

তবে একই সঙ্গে গেরুয়া শাল বা চাদর পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশিকায় ধর্মীয় প্রতীক ছাড়া ইউনিফর্ম পরার বাধ্যবাধকতা ছিল। ওই নির্দেশনা ঘিরে তখন ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয় এবং হিজাব ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই নির্দেশিকাই এবার বাতিল করা হলো।

নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ইউনিফর্ম চালু রাখবে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে এসব ধর্মীয় বা ঐতিহ্যবাহী প্রতীক পরতে বাধ্য করা যাবে না, আবার জোর করে খুলতেও বলা যাবে না। এসব কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্লাস, পরীক্ষা বা শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একই সঙ্গে কাউকে হয়রানি করা যাবে না- এ বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত পোশাকবিধি আগের মতোই বহাল থাকবে।

এদিকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির দাবি, কংগ্রেস সরকার ভোটব্যাংক রাজনীতির অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীককে অনুমোদন দিয়েছে।

অন্যদিকে, কর্নাটকের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সরকার কেবল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছে।

তিনি আরও বলেন, পৈতা, শিবধারা, পাগড়ি, উত্তর কর্নাটকের কিছু মেয়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিংবা হিজাব- সবই বহুদিন ধরে প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় চর্চার অংশ। নতুন নির্দেশনায় এসব বিষয়ই স্পষ্ট করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির মতো মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102