ভোলার লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মো. মাসুদ হাওলাদার (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রেশমা, তানভির, আক্তার ও ফিরোজকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে মো. মাসুদ হাওলাদার বাড়িতে না থাকাকালে প্রতিবেশী রেশমা তার স্বামী ফিরোজ, ছেলে সজীব (২২) এবং আরও কয়েকজনকে নিয়ে মাসুদের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পাড়তে যান। এ সময় মাসুদের মেয়ে মাসুমা বাধা দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রেশমা তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে মাসুমার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মাসুমার হাতে গুরুতর জখম হয়।
এ সময় মাসুদের বোন ফাতেমা বেগম (৭০) এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলায় তার হাত ভেঙে গেছে বলে পরিবারের দাবি।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মো. শাহিন ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শাহিনকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন মো. মাসুদ হাওলাদার। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে স্পিডবোটে বরিশাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদ হাওলাদার জানান, এই ঘটনায় নিহত মাসুদের মেয়ে বাদি হয়ে লালমোহন থানায় মামলা করে। মামলার এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামিকে আটক করেছি। আটককৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।