রোমানিয়ায় বসবাসরত অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর দিয়েছে দেশটির সরকার। এক জরুরি অধ্যাদেশের মাধ্যমে অবৈধ হয়ে পড়া নন-ইইউ নাগরিকদের শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বুখারেস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ‘রাজক্ষমা’ বা এমনেস্টি কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় নানা প্রতিকূলতায় যারা অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন, তাদের বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ৩২ নম্বর জরুরি অধ্যাদেশ জারি করেছে দেশটির সরকার। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) অফিশিয়াল গেজেটে এই বিশেষ ক্ষমার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
কারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন?
অধ্যাদেশের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশের পর অনিচ্ছাকৃত কোনো কারণে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তারা এই সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যারা:
১. ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে গেলেও নিয়োগকর্তা কাজ না দেওয়ায় ৯০ দিনের সময়সীমা পার করেছেন।
২. নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সময়মতো ট্যাক্স জমা না দেওয়ায় বা টিআরসি (TRC) আবেদন না করায় অবৈধ হয়েছেন।
৩. যাদের বৈধ প্রবেশের সব নথিপত্র রয়েছে কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন।
আবেদনের শর্ত ও সময়সীমা
এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণের জন্য বেশ কিছু শর্ত ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
১. যোগাযোগ: আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রোমানিয়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
২. নিয়োগকর্তা: আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন নতুন ও বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হবে।
৩. ওয়ার্ক পারমিট: নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে।
৪. সময়সীমা: এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
যারা এই সুযোগ পাবেন না
বাংলাদেশ দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই এমনেস্টি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যারা:
ইতোমধ্যেই দেশত্যাগের নির্দেশ বা ‘রিটার্ন ডিসিশন’ পেয়েছেন।
অবৈধ পথে (অনুপ্রবেশ) রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন।
দূতাবাসের পরামর্শ
যেহেতু এটি একটি নতুন আইনি প্রক্রিয়া, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি বা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি বুখারেস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোমানিয়া সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মীর পুনরায় বৈধভাবে কাজ করার ও ভাগ্য পরিবর্তনের নতুন পথ প্রশস্ত হলো।