২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরের প্রেক্ষাপটে পে-স্কেল বাস্তবায়নকে অনেকেই জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সরকারি কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে বারবার সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরছেন।
তবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তার এমন বক্তব্যের পর পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এদিকে, গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালের বাজেটের তুলনায় এবার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে পে-স্কেল প্রত্যাশীরা মনে করছেন, চলতি বাজেটেই এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা থাকতে পারে। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ দশমিক ৩৯ লাখ টাকা)।
এ মুহূর্তে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, ব্যাংক খাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা দূর করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, নিত্যপণ্যের বাজারে অরাজকতা নিয়ন্ত্রণ করা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।
এমন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সরকার একটি স্বস্তিদায়ক বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এ ছাড়া, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, নতুন পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার কাজ সচিবদের কমিটি অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে তিনটি বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই ১০ সদস্যের কমিটি সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন ও সুবিধা নির্ধারণে এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পে-স্কেল কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, কোন প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে এবং কোন সুপারিশগুলো অগ্রাধিকার পাবে—সবই নির্ধারিত হবে এই কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে।