জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দেশে কোরআনের আইন প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট আইন পরিহার করে পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত।
বুধবারের (২৯ এপ্রিল) অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি শরিয়তবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এ অবস্থানে অটল থাকে এবং কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
দেশে ইসলামী আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। তার মতে, মাদ্রাসাশিক্ষিত সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মাজহাবের আলেমদের সমন্বয়ে এ বোর্ড গঠন করা যেতে পারে, যা সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে এবং সেই অনুযায়ী আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মুজিবুর রহমান আরও বলেন, জাতীয় সংসদের প্রবেশমুখে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা’ সম্পর্কিত বক্তব্য উল্লেখ রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় দেশে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন থাকা উচিত। তিনি দাবি করেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কোরআনে বিশ্বাসী এবং সেই বিবেচনায় কোরআনের বিধান চালু করা সময়ের দাবি।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেও কোরআনের কোনো আইন বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামী বিধান চালু হলে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক সমস্যাগুলো হ্রাস পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ না করার বিষয়ে একদিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। নামাজ ও জাকাত ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।
এ ছাড়া ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রি’ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা এ ধরনের বক্তব্য দেননি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দাবি করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়েও বক্তব্য দেন মুজিবুর রহমান। তিনি একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের শপথ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তার মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে চলমান রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে।