দেশের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত ব্যবহারে থাকা বিমানবন্দরগুলো আবার চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথকে আরও কার্যকর করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব কি না তা নির্ধারণে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, নেভিগেশন সুবিধা, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি এবং স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ সুবিধাসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই তিনটি বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অন্যদিকে সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দরগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ অথবা খুব কম ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে কুমিল্লা বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইট না চালালেও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজকে নেভিগেশন সহায়তা দিচ্ছে। আর ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর বর্তমানে যাত্রীসেবার বাইরে থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়ন করে ধাপে ধাপে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে একটি সমন্বিত আকাশপথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাহিদা যাচাই শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়ায় নতুন বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে, যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট)।
সরকার আশা করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে এবং অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের ভারসাম্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।