বিদ্যুতের চলমান লোডশেডিংয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। এতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির মৃদু আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় এ ভোগান্তির শিকার হয় প্রায় তিন হাজার ৪৪০ জন পরীক্ষার্থী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাগানবাড়ি আইডিয়াল একাডেমি, নিশ্চিন্তপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাউরী আহমদি উচ্চ বিদ্যালয়, সুজাতপুর নেছারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় ও ফরাজীকান্দি নেদায়ে ইসলাম কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ কেন্দ্রে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা নিতে হয়। এতে পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতেও সমস্যায় পড়ে। বৃষ্টির কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
দশানী মোহনপুর কেন্দ্রের কক্ষ পরিদর্শকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির জন্য কেন্দ্র সচিবকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তা পেতে দেরি হয়। পরে মোমবাতি এনে পরীক্ষা চালানো হয়।
মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঝড়ে লাইনের ওপর বড় গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের কাজ চলমান থাকলেও তা সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ছিল। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়নি। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে দুটি কেন্দ্রে জেনারেটর এবং অন্য কেন্দ্রগুলোতে এসি-ডিসি লাইট ও মোমবাতির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এতে কোনো পরীক্ষার্থীর সমস্যা হয়নি।’