সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকের বুরো ফসলের অবশিষ্টটুকুও আর রইল না। টানা বৃষ্টির যেন বিরাম নেই। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা আবার পাহাড়ি ঢলে কৃষকের স্বপ্ন বছরে একটি মাত্র সোনার ফসল চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, যেন কিছুই করার নেই।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
প্রায় সত্তর ভাগ কৃষক জমি চাষাবাদের সময় ধার দেনা করে টাকা খরচ করেন এবং ফসল তোলার পর ধান বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করেন। যে সকল কৃষক প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে, মাথার উপরের বৃষ্টি ও বজ্রপাত উপেক্ষা করে কিছু ধান কাটতে পেরেছেন কিন্তু সেই ধান পানিতে ভেজা থাকার কারণে কোন ধান ব্যবসায়ী ধান ক্রয় করতে চাচ্ছে না। অনেকে আবার মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণে বিক্রি করছেন, এতে করে খরচের টাকাও উঠছে না।
উপজেলার ধারাম হাওরের কৃষক রিপন মিয়া বলেন, ১৬ কিয়ার জমি করছিলাম, ৮ কিয়ার কাটছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধান শুকাইতে পারছি না। ধানে গেরা উঠছে। আর বাকি ৮ কিয়ার গতকাল সন্ধ্যায় দেইখ্যা গেছি পানি নাই, সকালে লোক নিয়ে আইছি ফসল কাটব, কিন্তু দূর থেকেই দেখি শুধু সাদা আর সাদা (পানি)।
উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন, আমার চল্লিশ কিয়ার জমির মধ্যে ১০/১৫ কিয়ার আধা কাঁচা আধা পাকা ধান কাটছি। বাকি সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী জেলা নেত্রকোনা থেকে আমার খালাতো ভাইয়েরা এসে গলা পানি জমিতে নেমে আমার পরিবারের খুরাকের (বছরের খাবার) জন্য কিছু ধান কেটে দিচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে বেশি সময় পানিতে থাকা যায় না, শরীর ঠান্ডায় সাদা হয়ে যায়।