গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন তারেক রহমান। তবে নির্বাচনের পরপরই বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় নানা সংকট। শুরু হয় ইরান–আমেরিকা যুদ্ধ, যার প্রভাব এখনো চলমান।
এমন সংকটময় পরিস্থিতি ও নানা আলোচনা–সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই পথ চলছে বাংলাদেশের। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসেছে বড় একটি সুখবর। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে পেছনে ফেলে জিডিপির দৌড়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ- এমনটাই বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যের বরাতে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৭৫ টাকা।
অন্যদিকে, ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা কম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভারতকে পেছনে ফেলে মাথাপিছু আয়ের সূচকে এগিয়ে থাকার দাবি করছে বাংলাদেশ।
মাথাপিছু আয় হলো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক, যা একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নির্ণয় করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি একটি দেশের একজন নাগরিকের গড় অর্থনৈতিক উৎপাদনের মান নির্দেশ করে। সাধারণত এটি ওই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের একটি পরোক্ষ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এর আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, টানা দুই বছর কমার পর গত অর্থবছরে গড় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৯৩ ডলার। এরপর ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৯ ডলার, এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে আরও কমে হয় ২ হাজার ৭৩৮ ডলার।