শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

জলাতঙ্কের টিকা সংকটে রামেক, বিপাকে রোগীরা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে কুকুর ও বিড়ালের কাপড়ে আক্রান্ত রোগীরা জলাতঙ্কের টিকা পাচ্ছেন না। এতে তারা চরম শঙ্কায় জীবনযাপন করছেন।

রাজশাহী বিভাগের চিকিৎসাসেবার প্রধান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ছয় মাস ধরে জলাতঙ্কের টিকার চরম সংকট চলছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত টিকা সরবরাহ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে রোগীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তবে সেই টিকাও দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়েছে। ফলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকারি এই হাসপাতালে বর্তমানে টিকার সরবরাহ শূন্যের কোটায় নেমে আসায় বিপাকে পড়েছেন কামড় বা আঁচড় নিয়ে আসা শত শত সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীসহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী কুকুর, বিড়াল কামড় ও আঁচড় খেয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসছেন। নিয়ম অনুযায়ী, এসব রোগীকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১৪ দিন ধরে কাউকে হাসপাতাল থেকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে আসা অধিকাংশ রোগীই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। হাসপাতাল থেকে ‘টিকা নেই’ জানিয়ে দেওয়ার পর রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যে ভ্যাকসিন কিনছেন। এতে করে একেকজন রোগীর চিকিৎসায় কয়েক গুণ বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে মানুষ বাইরে ফার্মেসিতে খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

পুঠিয়া থেকে আসা এক রোগী বলেন, কুকুরে কামড়ানোর পর টিকার জন্য কয়েক ঘণ্টা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেছি। এই দীর্ঘ অপেক্ষা আর আতঙ্ক ছিল চরম যন্ত্রণার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কামড় খাওয়ার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের ফলে যদি কেউ সময়মতো টিকা না নিতে পারেন, তবে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই সংকট এখন জীবন মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, গত ছয় মাস ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের নিজস্ব উদ্যোগে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ভ্যাকসিন কেনা হলেও তা দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102