বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের জন্য সার্কুলার ইকোনমিবিষয়ক জাতীয় কৌশলের খসড়া নিয়ে আলোচনার লক্ষে ঢাকায় সরকার, শিল্প এবং টেকসই উন্নয়ন সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে জাতীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফিনল্যান্ড সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি ভ্যালু চেইন্স’ (সুইচটুসিই) প্রকল্পের আওতায় এবং চ্যাথাম হাউসের সহযোগিতায় জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় বলা হয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বৈশ্বিক টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ‘প্রি-কনজিউমার’ বর্জ্য তৈরি করে। এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে রিসাইক্লিং বা পুনর্চক্রায়ন বাড়ানো এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সার্কুলার টেক্সটাইলে নিজেকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
আলোচনায় মিশ্র তন্তুর রিসাইক্লিং চ্যালেঞ্জ, স্বচ্ছ সরবরাহ শৃঙ্খল এবং একটি জাতীয় সার্কুলার কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে একটি টেকসই টেক্সটাইল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বাণিজ্য অংশীদারদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সার্কুলার টেক্সটাইলের ওপর একটি শক্তিশালী জাতীয় কৌশল প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। সরকার এই বছরের মধ্যেই অংশীজনের সংলাপ এবং কারিগরি পর্যালোচনার মাধ্যমে এই কৌশল চূড়ান্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিল্প খাতের নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের এই কৌশল বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি হুবার্ট ব্লম বলেন, ইউরোপের বাজারে সার্কুলার ইকোনমি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান গন্তব্য হিসেবে ইইউ এই রূপান্তরে জ্ঞান বিনিময় ও অর্থায়নের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
চ্যাথাম হাউসের ড. প্যাট্রিক শ্রোডার বলেন, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য একটি জাতীয় সার্কুলার কৌশল বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে সাহায্য করবে এবং একইসঙ্গে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। সুইচটুসিই থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনকে কাজে লাগিয়ে চ্যাথাম হাউস ও ইউনিডো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ২০২৬-২০৩১ সালের জন্য একটি বিস্তৃত সার্কুলার টেক্সটাইল কৌশল চূড়ান্ত করতে এবং জাতীয় নীতি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
ইউনিডোর মার্ক ড্রেক বলেন, টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনের জন্য একটি জাতীয় সার্কুলার ইকোনমি কৌশল অপরিহার্য। এই ধরনের একটি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংকেত প্রদান করবে, শিল্পে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আলোচনায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএর শীর্ষ নেতারা পোশাক খাতের ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রত্যাশা পূরণ এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সার্কুলার পদ্ধতি এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য।