জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য যখন লড়াই শুরু হয়, তখন শিক্ষিত লোকেরা ঘরে বসে টেলিভিশন দেখে, আর সাধারণ রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে জীবন দেয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় জীবন দিয়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। আর তখন অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি ঘরে বসে টেলিভিশনে খবর দেখায় ব্যস্ত ছিল। গতকাল বনানীর বাসায় সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকাস্থ লালমোহন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ স্মরণসভা আয়োজন করা হয়।
মেজর হাফিজ বলেন, বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার যেভাবে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে এবং যেভাবে শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যা করেছে, তা ইতিহাসে নজির।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমার নির্বাচনি এলাকার ১২ জন ওই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এদের কেউ ছাত্র নয়। তাদের কেউ রিকশাচালক, কেউ শ্রমিক, কেউ তরকারি বিক্রেতা একেবারে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এরা কেন এসে গণতন্ত্রের আন্দোলনে জীবন দেয়, এটি আশ্চর্যের বিষয়। অথচ শিক্ষিত ব্যক্তিরা, ডিগ্রিধারীরা ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিল।
স্পিকার মেজর হাফিজ বলেন, রিকশাচালক, তরকারি বিক্রেতা, ভ্যানচালকদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশের অস্ত্রের সামনে বুক পেতে দেয়। এ এক অদ্ভুত বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এ মানসিকতার মধ্যেই নিহিত। তারা (খেটে খাওয়া মানুষ) কোনো স্বৈরশাসক চায় না, তারা শুধু গণতন্ত্র চায়, মানুষের অধিকার চায়। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত। এটিই আমাদের মতো দরিদ্র দেশের মানুষের মধ্যে এক শক্তিশালী মানসিকতা। এটাই বাংলাদেশ।