বাজার থেকে টাটকা সবজি কিনে আনার পর আমরা সাধারণত সেগুলো ফ্রিজেই তুলে রাখি। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, ফ্রিজে দীর্ঘ সময় সবজি রাখলে এর ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সবজির সতেজতা ও সঠিক গুণাগুণ বজায় রেখে কতদিন পর্যন্ত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়ে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী এই বিশেষ প্রতিবেদন।
কোন সবজি কতদিন রাখা যায়?
সব সবজির ধরন এক নয়, তাই এদের সংরক্ষণের সময়সীমাও ভিন্ন হয়। নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলো:
শাকজাতীয় সবজি: পালং শাক, লাল শাক বা কলমি শাক ফ্রিজে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ দিন রাখা ভালো। এর বেশি হলে শাক নেতিয়ে যায় এবং এর পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়।
কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা: সঠিক পদ্ধতিতে (বোঁটা ফেলে ও শুকনা অবস্থায়) রাখলে কাঁচামরিচ ১ সপ্তাহ এবং ধনেপাতা ৩ থেকে ৪ দিন সতেজ থাকে।
ফুলকপি ও ব্রকলি: প্লাস্টিক ব্যাগে ছোট ছিদ্র করে রাখলে এগুলো ৩ থেকে ৫ দিন ভালো থাকে।
গাজর ও মুলা: এই জাতীয় শক্ত সবজি ফ্রিজে ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা সম্ভব।
টমেটো: পাকা টমেটো ফ্রিজে না রাখাই ভালো, এতে এর স্বাদ নষ্ট হয়। তবে রাখলে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত।
শসা ও ক্যাপসিকাম: এগুলো অতিরিক্ত ঠান্ডায় দ্রুত নষ্ট হয়, তাই ৪ থেকে ৫ দিনের বেশি রাখা ঠিক নয়।
পুষ্টিগুণ ধরে রাখার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস
১. ধোয়া ও শুকানো: সবজি ফ্রিজে রাখার আগে ধুয়ে নিলে তা অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। ভেজা অবস্থায় সবজি রাখলে তাতে দ্রুত ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া জন্মে পচন ধরায়।
২. বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা: সবজি একদম বায়ুরোধী প্লাস্টিক ব্যাগে না রেখে কিছুটা বাতাস চলাচলের সুযোগ আছে এমন জিপলক ব্যাগ বা পেপার ব্যাগে রাখা উত্তম।
৩. ফলের সঙ্গে না রাখা: আপেল বা কলার মতো ফল থেকে ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয়, যা পাশের সবজিকে দ্রুত পাকিয়ে বা পচিয়ে দিতে পারে। তাই ফল ও সবজি আলাদা চেম্বারে রাখা জরুরি।
ফ্রিজে দীর্ঘ সময় সবজি রাখার ক্ষতিকর দিক
অতিরিক্ত সময় ফ্রিজে থাকা সবজির জলীয় অংশ শুকিয়ে যায়, ফলে এর ফাইবার বা আঁশ শক্ত হয়ে যায়। এছাড়া ভিটামিন-সি এর মতো সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদানগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের বাসি সবজি খেলে হজমের সমস্যা বা পেটের পীড়াও হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সবজির সর্বোচ্চ গুণাগুণ পেতে হলে তা ৩ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা সবচেয়ে ভালো। তবে একান্তই সম্ভব না হলে এক সপ্তাহের বেশি কোনো সবজিই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। সুস্থ থাকতে ‘টাটকা কিনুন, টাটকা খান’—এই নীতি অনুসরণ করাই শ্রেয়।