আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে সেনেগালের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া হবে।
ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন আফ্রিকার সাইডলাইনে সেনেগালের আফ্রিকান ইন্টিগ্রেশন, পররাষ্ট্র ও প্রবাসী সেনেগালিজ বিষয়ক মন্ত্রী শেখ নিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের নতুন সরকার আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেনেগালের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত তুলে ধরে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, চামড়া ও পাট খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে। এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবাখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এই খাতগুলোতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সেনেগালে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
এ সময় সেনেগালের মন্ত্রী শেখ নিয়াং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আফ্রিকায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে দুই দেশ শিগগিরই ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজন, যৌথ বাণিজ্য কমিশন গঠন এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের বিষয়ে একমত হয়। এছাড়া দুই দেশের রাজধানীতে আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সেনেগাল সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া তিনি সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণটি সানন্দে গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন সেনেগালের মন্ত্রী।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সেনেগালে মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা।
এই সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রিয় দৈনিক ‘লে সোলেয়েইল’ এবং সেনেগালের জাতীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা জোরদারে বাংলাদেশের নীতিমালা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে এই সফরে তিনি একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন।