রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন

সুপারফুড চিয়া সিড’কে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউস

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

চিয়া সিড বা চিয়া বীজ বর্তমানে ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম ‘চিয়া সিড’। আকারে ছোট হলেও এর পুষ্টিগুণ আকাশচুম্বী। মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া হিশপানিকা নামক উদ্ভিদের এই বীজটি প্রাচীন অ্যাজটেক জাতির প্রধান খাদ্য ছিল। বর্তমানে আধুনিক পুষ্টিবিদরা একে ‘সুপারফুড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কেন আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিয়া সিড রাখা জরুরি ? 

চিয়া সিডের বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ
সামান্য এক চামচ চিয়া সিডে যা থাকে, তা শুনলে অবাক হতে হয়:

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছের চেয়েও বেশি ওমেগা-৩ থাকে এতে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

প্রচুর ফাইবার: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

ক্যালসিয়াম: দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় এই ক্ষুদ্র বীজে, যা হাড় মজবুত করে।

প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস এবং এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শরীরে এটি কী ধরনের পরিবর্তন আনে?
১. দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে:
চিয়া সিড পানিতে ভেজালে নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ১০-১২ গুণ বেশি পানি শোষণ করে জেলির মতো হয়ে যায়। এটি খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে এবং ওজন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

২. এনার্জি বা শক্তি বৃদ্ধি:
অ্যাজটেক যোদ্ধারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বা যুদ্ধে শক্তি পেতে চিয়া সিড খেত। এটি শরীরে দীর্ঘক্ষণ এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের আগে অত্যন্ত কার্যকর।

৩. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ:
যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্য চিয়া সিড আশীর্বাদস্বরূপ। এটি শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না।

৪. হার্টের সুরক্ষা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:
শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। এর ওমেগা-৩ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।

৫. ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা:
প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি কোষের ক্ষয় রোধ করে ত্বককে সতেজ রাখে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে।

কিভাবে খাবেন চিয়া সিড?
চিয়া সিড খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখা।

পানীয় হিসেবে: পানি, লেবুর শরবত বা ডাবের পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

স্মুদি বা দই: দই, ওটস বা ফলের স্মুদির ওপর ছড়িয়ে দিয়ে এর পুষ্টি গ্রহণ করা যায়।

পুডিং: দুধ বা আমন্ড মিল্কে সারারাত ভিজিয়ে রেখে স্বাস্থ্যকর ‘চিয়া পুডিং’ তৈরি করা যায়।

জেনে রাখা ভালো:
চিয়া সিড শুকনো অবস্থায় না খেয়ে ভিজিয়ে খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। দিনে এক থেকে দুই টেবিল চামচ চিয়া সিড একজন সুস্থ মানুষের জন্য যথেষ্ট। তবে যাঁদের রক্তচাপ অনেক কম বা যাদের আঁশজাতীয় খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাঁরা খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

শরীরের ভেতর থেকে আমূল পরিবর্তন আনতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিয়া সিড হতে পারে আপনার ডায়েটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুস্থ থাকতে আজই আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এই ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী সুপারফুডটি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102