বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে কিডনি দিলেন স্বামী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন। রাজধানীর শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে গত ৫ মার্চ স্ত্রী মিনারার শরীরে কিডনিটি প্রতিস্থাপন করা হয়।

জসিম উদ্দিনের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামে। স্ত্রী মিনারা বেগম (৩২) প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরীক্ষা করে জানা যায়, তার দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে।

পরে মিনারাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপযুক্ত দাতা না থাকায় আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৬)। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সফলভাবে তার একটি কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।

২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জসিম ও মিনারার। তাদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন জসিম উদ্দিন।

মিনারা বেগম বলেন, আমার অসুস্থতার সময় সবাই ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা কিডনি দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন আমার স্বামী এগিয়ে আসে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। এখন আল্লাহর রহমতে দুজনই ভালো আছি।

জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নেই, বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলেও একসঙ্গে মরব। নিজের ইচ্ছায় কিডনি দিয়েছি। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম নাসির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়ে জসিম উদ্দিন সত্যিই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের বিরল উদাহরণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102