তীব্র তাপদাহে শরীরের মেটাবলিজম বা হজমপ্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে। এই সময়ে চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস বা আইসক্রিমের বদলে প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নিলে তা শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে দারুণ কাজ করে।
১. ডিটক্স ওয়াটার (শসা ও লেবু)
গরমে ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হলো ডিটক্স ওয়াটার। একটি জগে পানির মধ্যে কয়েক টুকরো শসা, লেবু এবং পুদিনা পাতা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন।
কার্যকারিতা: শসা শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং লেবুর ভিটামিন-সি মেদ পোড়াতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে।
২. ডাবের পানি
ডাবের পানি হলো প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয়। এতে ক্যালরি খুবই কম এবং পটাশিয়াম অনেক বেশি।
কার্যকারিতা: এটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং মেটাবলিজম বাড়ায়, যা দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক। ব্যায়ামের পর এনার্জি ড্রিংকের বিকল্প হিসেবে এটি সেরা।
৩. আমলকীর শরবত
আমলকী ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি শরীরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।
কার্যকারিতা: সকালে খালি পেটে আমলকীর রস হালকা কুসুম গরম পানি বা সাধারণ পানির সাথে মিশিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং পেটের মেদ কমে।
৪. মৌরির পানি
এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মৌরি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করুন।
কার্যকারিতা: মৌরি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি (Water weight) বের করে দেয়। এটি রক্ত পরিষ্কার রাখতেও কার্যকরী।
৫. মাঠা বা ঘোল (চিনি ছাড়া)
দইয়ের তৈরি মাঠা বা ঘোল প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
কার্যকারিতা: এতে সামান্য বিট লবণ এবং জিরার গুঁড়া মিশিয়ে খেলে গরমে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং চর্বি হজমে সাহায্য করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন অতিরিক্ত চিনি না থাকে।
কিছু প্রয়োজনীয় টিপস:
চিনি বর্জন করুন: ওজন কমাতে চাইলে পানীয়তে সাদা চিনি যোগ করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে সামান্য মধু বা মিছরি ব্যবহার করা যেতে পারে।
বরফ ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলুন: খুব বেশি বরফ দেওয়া ঠান্ডা পানির বদলে সাধারণ তাপমাত্রার বা মাটির কলসির পানি পান করা হজমের জন্য বেশি ভালো।