১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। বর্ষবরণের মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নববর্ষের ঐক্যতান গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এবারের শোভাযাত্রায় বাউল সংস্কৃতির ওপর আঘাতের প্রতিবাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোট পাঁচটি প্রধান মোটিফ নিয়ে এবারের শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। মূল কাঠামো হিসেবে থাকছে ‘দোতারা’। এ ছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, লোকজ মোটিফ হিসেবে হাতি ও ঘোড়া এবং নতুন দিনের সূচনার বার্তা দিতে থাকছে মোরগ।
সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে সংগীতের প্রতীক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে দোতরা। এটি শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং বাংলার মরমিয়া সংগীত ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব। অন্যদিকে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সর্বজনীন সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে রাখা হয়েছে পায়রার মোটিফ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই পায়রা শান্তির আহ্বান জানাবে।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই শোভাযাত্রা কেবল উৎসব নয়, বরং এটি হবে শান্তি, অসাম্প্রদায়িকতা ও ঐক্যের এক জোরালো সুর। ঘৃণা ও বিভেদের বদলে সম্প্রীতির ঐক্যতানই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
কয়েক দশকের ঐতিহ্য মেনে করোনা মহামারিকালেও যে ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি, এবারও সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। আগামী ১০ দিন চারুকলা প্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে সেজে উঠবে এবং পহেলা বৈশাখের ভোরে নতুন সূর্যকে বরণ করে নেবে রাজধানীবাসী।
শোভাযাত্রার নাম ‘আনন্দ’ নাকি ‘মঙ্গল’ হবে—এ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে নিজের অভিমত জানিয়েছেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। তিনি বলেন, নাম যা-ই হোক না কেন, উৎসবের মূল সুর বা এর আবেদনে কোনো ফারাক হবে না।
এখন পর্যন্ত ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ১৫০টি দেশের ৭৮৮টি ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে৷ এই তালিকায় বাংলাদেশের পাঁচটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে৷ ২০০৮ সালে বাউল গান, ২০১৩ সালে জামদানি শিল্প, ২০১৬ সালে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, ২০১৭ সালে সিলেটের শীতল পাটি এবং ২০২৩ সালে ঢাকার রিকশা চিত্র এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়৷