বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাকিস্তান যেভাবে হোয়াইট হাউসের আস্থা অর্জন করল ভয়াবহ বন্যায় ডুবে যাচ্ছে দেশ, বড় মাপের বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কেন এই শত্রুতা? টেলিকম মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কোটি টাকায় বালুমহালের ইজারা, ছাত্রদল-বিএনপি নেতার টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন ৩ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো ডা. দীপু মনিকে, পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী স্পেনের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল না ইতালি ভারতের মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ‘নাগরিকত্ব’ এখনো বাতিল ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন: ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আন্তর্জাতিক নিন্দা জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ আজ

বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনল সিআইডি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

অনলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া টাকা পাচার করেছে মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) নামের একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান। ভুক্তভোগীদের অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে চক্রটির হাতিয়ে নেওয়া টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মুদ্রায় রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করে। দীর্ঘ তদন্তের পর সেই অর্থের একটি অংশ দেশে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। যার পরিমাণ ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। টাকার অঙ্কে ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা।

কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই ভুক্তভোগীরা আদালতের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পাবেন।

মামলার তদন্তে জানা যায়, এমটিএফই একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যা দ্রুততম সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করত। ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এটি। তখন ঘরে বসে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হন। ২০২৩ সালের শুরুতে প্ল্যাটফর্মটির বিস্তার দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হতো, যেখানে জমা অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে প্রদর্শিত হতো। তবে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া বা অস্তিত্বহীন। লাভ-ক্ষতির তথ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো।

এমটিএফই স্কিম প্রাথমিকভাবে কিছু অর্থ পরিশোধ করে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এমটিএফই হঠাৎ সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ভার্চুয়াল মুদ্রা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। পক্ষান্তরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ এমটিএফই এর মূল ওয়ালেটে জমা হয়ে সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এভাবে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয় মর্মে তদন্তে উঠে এসেছে।

সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে সিআইডির হিসাব নম্বরে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৪৪ কোটি ১৪  ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা জমা হয়। এ কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ-মার্কিন পারস্পরিক কূটনৈতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মামলা রুজুর ৩ বছরেরও কম সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া এ পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে প্রতারণা করে পাচার করা বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধার করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102