সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের, সাড়া দেয়নি কোনো দেশ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘উন্মুক্ত ও নিরাপদ’ রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এ প্রস্তাব দেন তিনি। তবে সে প্রস্তাবে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা, যারা এই কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠাবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি আর এমন একটি জাতির দ্বারা হুমকির মুখে থাকবে না যা সম্পূর্ণভাবে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে।’

রোববার (১৫ মার্চ) মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসি নিউজকে বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের উল্লেখ করা কিছু দেশের সঙ্গে ‘সংলাপ’ শুরু করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে চীন ‘গঠনমূলক অংশীদার’ হবে।

কিন্তু দেশগুলো এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে চীন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেছেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল এবং নিরবচ্ছিন্ন রাখা সব পক্ষের দায়িত্ব’ এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য চীন ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।’

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যকরভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরোধ করে রেখেছে। তাদের লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করা এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ওয়াশিংটনকে চাপে ফেলা।

তেহরান বলছে হরমুজ প্রণালি—যার মধ্য দিয়ে সাধারণত বিশ্বব্যাপী তেলের রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়—যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএসকে বলেছেন, তাদের কাছে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য আবেদন করেছে ‘এবং এটি আমাদের সামরিক বাহিনী সিদ্ধান্ত নেবে।’

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, নয়াদিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনার ফলে শনিবার দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী গ্যাস ট্যাঙ্কার প্রণালিটি অতিক্রম করার অনুমতি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং আমার কথা বলায় কিছু ফল পাওয়া গেছে। এটি চলমান… অবশ্যই, ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটিই ভালো যে আমরা যুক্তি দিয়ে এবং সমন্বয় করে একটি সমাধান খুঁজে বের করি।’

ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও), ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এবং ইরাকি ও ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ১০টি তেল ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বা হামলার খবর পাওয়া গেছে।

অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, সব লক্ষণ এই সংঘাতের তুলনামূলক দ্রুত অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার তেল ট্যাংকার আটকা পড়ে আছে এবং হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না।

থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের ডিস্টিংগুইশড ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার জন্য নৌবাহিনী পাঠাবে কি না সে বিষয়ে তার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। স্লাভিন আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি মনে করি না যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য চীন যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। আসলে তাদের প্রয়োজনও নেই, কারণ ইরানের তেল চীনের কাছে বেশ ভালোভাবেই যাচ্ছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইরান শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশগুলোর তেল চালানের পথ বন্ধ করছে।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘বৈশ্বিক শিপিংয়ের ব্যাঘাত ঘটাতে’ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার গুরুত্ব নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102