শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন

চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত ৭

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংরাইশ গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. সবুজের সঙ্গে একই এলাকার আমির ইসলামের ভাতিজা রেজাউল করিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে রেজাউল করিমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার জেরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় বাচ্চু মিয়া তার দলবল নিয়ে এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িসহ অন্তত সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন: হাবিব উল্লাহর ছেলে রেজাউল হক, হাফিজুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন, আহসান মিয়ার ছেলে মো. রেহান, রেজাউল হকের ছেলে মো. রিফাত, সৌদি প্রবাসী আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও ফাতেমা আক্তার। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার অত্যাচারে বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী এলাকায় থাকতে পারেননি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে দলবল নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে দফায় দফায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তা ছাড়া আমি কখনো যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102