রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

৪০ হাজার টাকার খামারে এখন ১০ হাজার মুরগি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামের তরুণ মো. আব্দুল্লাহ। অল্প পুঁজি আর বড় স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা তার ছোট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে ১০ হাজার মুরগির একটি বড় পোল্ট্রি খামারে। গ্রামের তরুণদের জন্য এটি এখন অনুপ্রেরণার গল্প।

২০১৬ সালে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি খামারের যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে ছিল মাত্র এক হাজার ব্রয়লার মুরগি। খামারের কাজের শুরুতে পাশে ছিলেন তার বাবা মো. সাকির হোসেন। পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন আব্দুল্লাহ।

শুরুর সেই ছোট খামার ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। ২০১৮ সালে ১২০০ বর্গফুটের একটি নতুন ব্রয়লার শেড তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি শেড নির্মাণ করা হয়, যেখানে প্রায় ২৪০০টি করে মুরগি পালনের ব্যবস্থা করা হয়।

২০২৫ সালে খামারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয় ‘আব্দুল্লাহ এগ্রো অ্যান্ড পোল্ট্রি ফার্ম’। একই বছরের আগস্ট মাস থেকে একটি নতুন বড় শেড চালু করা হয়। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় ১০ হাজার মুরগি পালনের সক্ষমতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি কড়ইবাড়ী এলাকার অন্যতম বড় পোল্ট্রি খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুধু উদ্যোক্তা নন, আব্দুল্লাহ একজন শিক্ষার্থীও। তিনি ২০২৫ সালে ইব্রাহিমপুর শাহ সূফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেছেন। বর্তমানে ফাজিল (স্নাতক) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খামার পরিচালনা করে নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ জানান, নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করলে পোল্ট্রি খামার থেকেও ভালো আয় করা সম্ভব। বর্তমানে তার খামার থেকে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, খামার পরিচালনায় সরকারি কোনো ওষুধপত্র বা সহায়তা পান না। মুরগির প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কোম্পানি থেকেই কিনতে হয়, যা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামার পরিচালনা আরও সহজ হতো এবং উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতো।

আব্দুল্লাহর বাবা মো. সাকির হোসেন বলেন, ‘শুরুতে সবকিছুই ছোট ছিল। ধৈর্য আর পরিশ্রমের কারণে খামারটি আজ এই অবস্থানে এসেছে। ছেলের এই উদ্যোগে আমি গর্বিত।’

তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগেও সফল হওয়া সম্ভব। ধীরে ধীরে এগোলে সফলতা আসবেই। পোল্ট্রি খামারে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণরা চাইলে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।’

ইব্রাহিমপুর শাহ সূফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. এনামুল হক কুতুবী বলেন, ‘মো. আব্দুল্লাহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তারা পোল্ট্রি খামারে এগিয়ে এলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মাংসের উৎপাদনও বাড়বে। আমরা নিয়মিতভাবে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ খামার করতে চাইলে বা সম্প্রসারণ করতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102