ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বেশ কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় মাদকের বিস্তার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করলেও সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সচেতন মহলের প্রশ্ন- এতদিন ধরে কীভাবে সবার নাকের ডগায় অসাধু মাদককারবারিরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অনেকের মতে, যদি মাদক ব্যবসার মূল শেকড় চিহ্নিত করে তা নির্মূল করা না যায়, তাহলে এলাকার যুবসমাজ খুব দ্রুত ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কিছু প্রত্যন্ত এলাকা ও বাজারকেন্দ্রিক কয়েকটি স্থানে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। সচেতন মহল মনে করছে, শুধু মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন খুচরা মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং এর পেছনের মূলহোতা ও সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানো, যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে এবং এলাকার তরুণ প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।