মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সাড়ে ১৬ হাজার (তালিকা)

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের বিশেষ শাখার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এর মধ্যে আট বিভাগের ৪৫টি জেলার ৩ হাজার ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে, যেখানে ভোটের দিন সংঘাত, হানাহানি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতের নির্বাচনি সহিংসতা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৩৫৯টি। ঝুঁকিমুক্ত বা সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ১৭ হাজার ৬৫৬টি।

বরিশাল-৫ আসনে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

একক আসন হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে। এ আসনের মোট ১৭৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এই আসনে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ঝুঁকি বিবেচনায় সবচেয়ে কম কেন্দ্র রয়েছে জামালপুর ও নোয়াখালী জেলায়। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে মাত্র ৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ ছাড়া জামালপুর জেলার আরও চারটি আসনে কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকির তালিকায় নেই।

কম ঝুঁকির আসনগুলো

পুলিশের প্রতিবেদনে ঝুঁকি বিবেচনায় কম কেন্দ্র রয়েছে: ময়মনসিংহ-১১ আসনে ১টি, ময়মনসিংহ-২ আসনে ৩টি, পাবনা-১ আসনে ৬টি, ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৭টি, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৩টি, নোয়াখালী-২ আসনে ২টি, নোয়াখালী-৬ আসনে ৬টি, সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫টি, টাঙ্গাইল-৮ আসনে ৯টি, ঢাকা-৩ আসনে ৭টি এবং বরিশাল-১ আসনে ২টি কেন্দ্র।

যেসব আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি রয়েছে: চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯৪টি, ঢাকা-৭ আসনে ৯০টি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৮৪টি, পটুয়াখালী-৩ আসনে ৮০টি, ভোলা-২ আসনে ৭১টি, ঢাকা-৪ আসনে ৭০টি, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ৬৮টি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৫৯টি, খুলনা-৪ আসনে ৫৮টি, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৫৭টি এবং ময়মনসিংহ-৯ আসনে ৫৪টি কেন্দ্র।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

এসবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিভাগে ৮১৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৯৮টি, বরিশাল বিভাগে ৪৯০টি, খুলনা বিভাগে ৪০১টি, রাজশাহী বিভাগে ৩২৬টি, রংপুর বিভাগে ২৪৫টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭৪টি এবং সিলেট বিভাগে ৬৩টি কেন্দ্র।

নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা

পুলিশ সূত্র জানায়, ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা সাজানো হচ্ছে।

অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্য

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২ জন

সাধারণ কেন্দ্রে ১ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রতিটি পুলিশ সদস্যের কাছে থাকবে অস্ত্র ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্ট্রাইকিং ও টহল দল হিসেবে মাঠে থাকবে। ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষিত স্থানেও বাড়তি নিরাপত্তার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের করণীয় ও বর্জনীয়

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ সদরদপ্তর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় নিরপেক্ষতা, পেশাদার আচরণ ও আইনগত সীমারেখা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা যাবে না। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো মন্তব্য, ছবি বা মতামত প্রকাশ নিষিদ্ধ। ভোট গ্রহণের দিন অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফুটপাত বা টং দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া এবং খাবার গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রার্থী বা তাদের এজেন্ট-সমর্থকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের খাবার বা সুবিধা নেওয়া যাবে না। প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই কেবল বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ

নির্দেশনায় সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভোটকক্ষে একসঙ্গে দুজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন। গোপন কক্ষে ছবি বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, সময় বেঁধে দিয়ে এমন নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102