আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বইছে গভীর আগ্রহের হাওয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতা এবং দেড় দশকের একদলীয় আধিপত্যের অবসান এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্রেফ একটি ভোট হিসেবে দেখছে না, বরং একে অভিহিত করা হচ্ছে ‘বিশ্বের প্রথম জেন-জি (Gen Z) চালিত নির্বাচন’ হিসেবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরব নিউজ-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে বিশ্বরাজনীতির এক নতুন ‘মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেশন জেড বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মই এই নির্বাচনের মূল শক্তি। ২০২৪ সালের আগস্টে পটপরিবর্তনের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে তরুণেরা কেবল ভোটার নয়, বরং নীতিনির্ধারক ও সক্রিয় অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রায় দেড় দশক পর দেশটিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ার পেছনে এই প্রজন্মের অনমনীয় লড়াইকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।
রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) কথা। অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা এই তরুণদের দলটি নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এই জোট তরুণ সমাজের একটি অংশের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এনসিপি নেতারা একে ‘বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংহতি’ হিসেবে দাবি করছেন।
আরব নিউজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারতের প্রভাব যে স্তিমিত হয়ে আসছে, তা স্পষ্ট। বিপরীতে, নতুন এই রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা এবং ‘দিল্লি-নির্ভরতা’ কাটানোর স্লোগান আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের নজর কেড়েছে।
তবে তরুণ নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অর্থনীতি’। আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলা করাই হবে নতুন সরকারের জন্য প্রকৃত সাফল্য বা ব্যর্থতার মাপকাঠি।
তথ্যসূত্র: আরব নিউ ও এএফপি