খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়নি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি দেশের মানুষকে তার প্রকৃত ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—আগামীতে লুণ্ঠনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনেক রক্ত ও জীবন দিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জে কে হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইনসাফভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় বিবিয়ানা ও রশিদপুরের গ্যাস নবীগঞ্জ-বাহুবলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত গ্যাস দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জুল হুসাইন মিরাজী, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান এবং সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহাজাহান আলী। এছাড়াও বক্তব্য দেন কাজী মুখলেছুর রহমান, নেজামী ইসলামী পার্টির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ খান, প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম জাকী প্রমুখ।
মামুনুল হক বলেন, এতদিন দেশে শাসনের নামে শোষণ চালানো হয়েছে। মানুষের অধিকারের কথা বলে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশের গরিব ও দুঃখী মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেমিক সকল শক্তির ১১টি দল আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ৫৪ বছরের অব্যবস্থাপনা, জুলুম, সুশাসনের অভাব, বৈষম্য এবং আধিপত্যবাদী শক্তির যাঁতাকল থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে আবু সাঈদ জীবন দিয়েছেন। দেড় সহস্রাধিক দামাল ছেলে প্রাণ দিয়েছে। ৩০ হাজারেরও বেশি জুলাই যোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এই আত্মত্যাগের অর্থবহ বাস্তবায়নের জন্যই জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছে। এই জুলাই সনদকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই ঐতিহাসিক ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, জনতার যে জোয়ার ও জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি—নির্বাচনে যদি জনগণের রায় ছিনতাই না করা হয় এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের বিজয় ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র না করা হয়, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরশাসককে হটিয়েছি। আগামী দিনে ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।