জামালপুর কোরআন অবমাননার দায়ে আকাশ (২৫) নামে এক যুবককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পৌর শহরের দিয়াবাড়ি জঙ্গলপাড়া এলাকার মৃত মুনসুর আলীর ছেলে সোহেল হোসেনসহ স্থানীয় আরও ৩ জন বাদী হয়ে আকাশ ও তার বড় বোনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার ২ নম্বর আসামি আকাশের বড় বোন রানী বেগম (৩৮) কে আটক করে পুলিশ। সোমবার বিকালে তাদের আদলতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি দুপুরে জামালপুর পৌর শহরের জঙ্গলপাড়া বোর্ডঘর এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আনোয়ার হোসেন এর দুই সন্তান আকাশ ও রানী বেগম মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে তা অপবিত্র স্থানে ফেলে দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২৫ জানুয়ারি এশার নামাজের পর অভিযুক্ত আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয়রা। এতে আকাশ ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আকাশকে আটক করে জামালপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২৫ জানুয়ারি সকালে মামলার বাদী সোহেল হোসেনের দশ বছর বয়সী ছেলে শয়ন হোসেন কোরআন অবমাননার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে আসামি রানী বেগম তাকে একা পেয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে শয়নের চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।
জামালপুর সদর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোরআন অবমাননার অভিযোগে প্রথমে অভিযুক্ত আকাশকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে আনা হয় এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে সোহেল হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই রাতেই আকাশের বড় বোন রানী বেগমকে আটক করা হয়। সোমবার বিকালে তাদের দুজনকেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।