আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকালে নগরীর এয়ারপোর্ট রোডস্থ উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এক আলোচনা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের কমিশনার খন্দকার নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক নিরীক্ষা) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কাস্টম শুধু রাজস্ব আহরণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাত্রীসেবা উন্নয়ন, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান সুসংহত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ কাস্টম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এবং কর অঞ্চল সিলেটের কর কমিশনার ভূবন মোহন ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন: কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের উপকমিশনার সম্প্রীতি প্রামানিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত কমিশনার মীর আবু আবদুল্লাহ আল-সাদাত। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘Customs Protecting Society through Vigilance and Commitment, যার বাংলা অর্থ ‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টম।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের উন্নয়ন, সহজীকরণ ও কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপিত হয়। Customs Co-operation Council-এর প্রথম সভার স্মরণে ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (WCO)-এর সক্রিয় সদস্য। ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের পণ্য এবং মাদকদ্রব্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কাস্টম যেভাবে সমাজ ও জনজীবন সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে, তা তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমসের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মোট রাজস্বের প্রায় ২৭–২৮ শতাংশ কাস্টম থেকে সংগৃহীত হয়। তিনি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাস্টমের অবদান উল্লেখ করে দ্রুত পণ্য খালাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
কর কমিশনার ভূবন মোহন ত্রিপুরা আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টম খাতে রাজস্ব আদায় ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কমিশনার খন্দকার নাজমুল হক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ ও ত্বরান্বিত করতে শুল্ক স্টেশনসমূহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন-বিধি মেনে সঠিকভাবে পণ্যের ঘোষণা প্রদানের আহ্বান জানান।
পরিশেষে সভাপতি প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।