কারাগারে ১৩ দিন কাটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ২২ বছর বয়সের এক আফগান তরুণী। তিনি দেশটিতে নারীদের জন্য একটি তায়কোয়ান্দো ব্যায়ামাগার চালাতেন। তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের একজন মুখপাত্র ওই তরুণীর মুক্তি পাওয়ার খবর জানিয়েছেন।
তরুণীর নাম খাদিজা আহমাদজাদা। আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত শহরের পাশে তিনি বসবাস করেন।
তায়কোয়ান্দো কোচ খাদিজার বিরুদ্ধে ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরা, গান চালানো ও তার ব্যায়ামাগারে নারী-পুরুষ উভয়কে একসঙ্গে ব্যায়ামের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ জন্য তাকে ১৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আফগানিস্তানের পাপ প্রতিরোধ ও সদ্গুণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ‘নিয়ম লঙ্ঘনের’ ঘটনা তাদের পরিদর্শকের নজরে আসার পর খাদিজাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তালেবান সরকারের এই মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, নারীদের খেলাধুলার ব্যায়ামাগার-সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করায় খাদিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ওই মুখপাত্র জানান, এর আগেও খাদিজাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পরপরই নারীদের খেলাধুলার কেন্দ্র ও ব্যায়ামাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় বলা হয়েছিল, ‘নিরাপদ পরিবেশ’ ফিরলে এসব কেন্দ্র আবারও চালু করা হবে। তবে এ বছরের জানুয়ারিতেও কোনো কেন্দ্র চালু হয়নি। আফগান নারীরা খেলাধুলায় অংশ নিতে পারছেন না।
খাদিজার মামলাটি আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার তার মুক্তির কথা জানান। তবে মুক্তি পেয়ে খাদিজা এখন কোথায় আছেন, সেটা জানা যায়নি।
এর আগে খাদিজার গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এ নিয়ে পোস্ট দেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেত্তে। তিনি ওই পোস্টে খাদিজার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।
জাতিসংঘের এ বিশেষ দূত আফগানিস্তানে গ্রেপ্তার থাকা নারী সাংবাদিক নাজিরা রাশিদির মামলার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ শহরের এই নারী সাংবাদিককে গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, সাংবাদিকতার কাজের কারণে নাজিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তালেবান মুখপাত্র অস্বীকার করেছেন।