তুরস্কের পরারষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তুরস্কের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ‘আমি আশা করি, তারা ভিন্ন পথ বেছে নেবে। তবে বাস্তবতা হলো, বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানের ওপর আঘাত হানার সুযোগ খুঁজছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—উভয় দেশই কি একই অবস্থানে রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলই বেশি আগ্রহী এবং সক্রিয়ভাবে সুযোগের সন্ধান করছে।
ফিদান আরও জানান, সম্প্রতি ইরান সফরকালে তিনি দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি তেহরানে গিয়ে একজন বন্ধুর মতো পুরো পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছি। একজন প্রকৃত বন্ধু সব সময় তিক্ত সত্য কথাই বলে।’
এদিকে, ফিদানের বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় এরদোয়ান স্পষ্টভাবে জানান, ইরানে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী তুরস্ক এবং তারা প্রতিবেশী দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো সামরিক হামলাকে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে যখন কথার লড়াই দিন দিন তীব্র হচ্ছে, ঠিক সে সময়েই এই কঠোর বার্তা দিল ইরান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি উদ্বেগজনক হলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ কারণেই দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ‘হামলাটি সীমিত হোক বা ব্যাপক, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক—যে নামই দেওয়া হোক না কেন, আমরা সেটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবেই দেখব এবং সে অনুযায়ী সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সামরিক হুমকির মুখে থাকা কোনো দেশের সামনে আত্মরক্ষার জন্য নিজের হাতে থাকা সব উপকরণ ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না।’
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানকে লক্ষ্য করে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নৌবহর পাঠিয়েছেন। যদিও গত সপ্তাহে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি সামরিক হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এবার আবারও তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধকে সমর্থন জানিয়ে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছিল।