সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত দাঁড়াচ্ছে ১:৮।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবিত বেতন স্কেল এই সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথম জাতীয় বেতন কমিশন (১৯৭৩) সময়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:১৫.৪। এরপর ২০১৫ সালের শেষ বেতন কমিশনে অনুপাত কমে ১:৯.৪-এ দাঁড়ায়। বর্তমান জাতীয় বেতন কমিশন (২০২৫) সুপারিশ করেছে ১:৮ অনুপাত, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
নতুন স্কেলের উদাহরণ
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তার বর্তমান মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য ভাতাসহ মোট বেতন-ভাতা বর্তমানে ১৬,৯৫০ টাকা। প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলের প্রেক্ষিতে একই গ্রেডের কর্মকর্তা পাবেন ২০,০০০ টাকা মূল বেতন; ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন-ভাতা হবে ৪১,৯০৮ টাকা।
একইভাবে, ১৯তম গ্রেড থেকে শুরু করে ১নং গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভাতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে সমতা ও যুক্তিসঙ্গত বৃদ্ধির নীতি অনুসারে নিম্নতর গ্রেডের বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু বিশেষ ভাতা, যেমন যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাইভাতা ও ঝুঁকিভাতা (যেখানে প্রযোজ্য) শুধুমাত্র ১০ম–২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য।
গাড়ি সেবা নগদায়ন ভাতা (৫ম গ্রেড থেকে ঊর্ধ্ব) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতার বৃদ্ধি হারের তুলনায় কম দেখা যাবে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হবার তারিখ থেকে বর্তমানে প্রদত্ত ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতার সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগও সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জীবিকা ও মানসিক সুরক্ষা শক্তিশালী হবে।