আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা উঠে আসে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সেনাপ্রধান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে মোট ৩ হাজার ৬১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৬২ শতাংশ।
গোলাবারুদের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময় থানা থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫৬ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা মোটের অর্ধেকেরও বেশি। অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তার প্রত্যাশা, গৃহীত উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশবাসী একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপভোগ করতে পারবে।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা না থাকে।
এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ মধ্যরাত থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।