‘পিছু হটার সুযোগ নেই’ জানিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলে নিজের অবস্থান আরও জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তা জানতে পারবেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘সবকিছু ভালোভাবেই হচ্ছে।’
এদিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন ‘নিয়মহীন ব্যবস্থার দিকে’ এগোচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসছে না।’
ট্রাম্পের বুধবার দাভোসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘অনেক বৈঠক নির্ধারিত’ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ন্যাটো নিয়ে প্রশ্ন তুললে ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটোর জন্য আমার চেয়ে বেশি কেউ করেনি।’ তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনে ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। বর্তমানে ন্যাটোর সদস্য দেশ ৩২টি। জোটটির মূল নীতি অনুযায়ী, কোনো সদস্যের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘কোনো মন্তব্য নেই’ বলে এড়িয়ে যান।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আটটি ইউরোপীয় দেশের সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন দাভোসে দেয়া বক্তব্যে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপ ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। তবে এটি কেবল সম্মিলিতভাবেই সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপকে তিনি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রতি তার দেশের প্রতিশ্রুতি ‘অটল’ বলে জানান এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সমর্থনের কথা বলেন।
এর আগে মাখোঁ গাজাসংক্রান্ত ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করায় ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। মাখোঁ একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের আহ্বান জানান। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুলাইয়ে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিতের কথাও ভাবছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।