শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন অনেকের ঘরে উষ্ণতার নিশ্চয়তা থাকে, তখন রাস্তায় বসবাসরত অসংখ্য পথশিশু ও অসহায় মানুষের জন্য প্রতিটি রাত হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার লড়াই। ঠিক সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো হোপ অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ।
রবিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ‘পথের স্কুল’-এ পড়াশোনা করা সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও আশপাশের অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতের এই কঠিন সময়ে উষ্ণ শীতবস্ত্র পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে খাঁটি আনন্দ আর স্বস্তির হাসি।
কনকনে শীতের সকালে নতুন কম্বল ও শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়ে অনেক শিশুর চোখে দেখা যায় দীর্ঘদিনের কষ্টের পর একটুখানি নিরাপত্তার অনুভূতি। কারও চোখে ছিল স্বস্তির ঝিলিক, কারও মুখে চাপা উচ্ছ্বাস, আবার কেউ কেউ নিঃশব্দ কৃতজ্ঞতায় তাকিয়ে ছিল আকাশের দিকে। এই সামান্য উষ্ণতা তাদের কাছে যেন ভালোবাসা, যত্ন আর মানুষের পাশে থাকার বড় প্রমাণ।
এই মানবিক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হোপ অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ কামরুল হাসান মেহেদি। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা—আতিক হাসান, হান্নান হোসাইন নিল, সাকিব মিয়া, রাকিব হাসান, মাসুদ মাহতাব, শফিকুল ইসলাম, শায়লা নূর স্নেহা এবং জেরিন জাবেদ মুমু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হোপ অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠান চলাকালে অতিথিরা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের খোঁজখবর নেন, গল্প শোনেন এবং ভবিষ্যতে আরও নিয়মিতভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিশুদের সঙ্গে এই আন্তরিক মুহূর্তগুলো পুরো পরিবেশকে করে তোলে আবেগময় ও মানবিকতায় ভরপুর।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,
“পথশিশুরা আমাদের সমাজেরই সন্তান। অবহেলা নয়, তাদের প্রয়োজন ভালোবাসা, যত্ন ও সুযোগ। সামান্য সহানুভূতি আর দায়িত্ববোধই পারে তাদের জীবনকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে। শীতবস্ত্র বিতরণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়—এটি মানবিকতার একটি শক্ত বার্তা।”
হোপ অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিশ্বাস করে—মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়ালেই গড়ে উঠবে একটি মানবিক, সহানুভূতিশীল সমাজ।
শীতবস্ত্র বিতরণের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করলো, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকলে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষগুলোর জীবনেও ছুঁয়ে দেওয়া যায় উষ্ণতার আলো।